বুধবার ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

মেঘনার করাল গ্রাসে মাঠের পর মাঠ, আতঙ্কে এলাকাবাসী।

সোমবার, ১১ জানুয়ারি ২০২১
265 ভিউ
মেঘনার করাল গ্রাসে মাঠের পর মাঠ, আতঙ্কে এলাকাবাসী।
Spread the love

নিজস্ব সংবাদদাতা(রায়পুরা):- নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নের মধ্যে নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নসহ আরও ৩টি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি গ্রাস করছে ভয়াল মেঘনা। রাতারাতি অনেক জমি চলে যাচ্ছে নদীর বুকে।
উপজেলার পলাশতলি, হাইরমাড়া, চরসুবুদ্দি ইউনিয়নের শুকনো মৌসুমেও মল্লিকপুর, শাহপুর, বল্লবপুর,বড়ইতলা গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। মেঘনার ভাঙনে পলাশতলী ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামটি পুরোপুরি বিলীন হওয়ার পথে। এতে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হওয়ার চিন্তায় চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় আঃ রাশেদ (৭০) জানান, আমাদের ঘরবাড়ি আগেই নদী নিয়ে গেছে। গত সপ্তাহে এক ঘণ্টার মধ্যে কয়েক একর জমি তলীয়ে গেছে এক নিমিষেই। এর থেকে পরিত্রাণ চাই।
মুর্শেদ আলম মোল্লা (৬০) বলেন, এক ঘণ্টায় আলু, টমেটো, সরিষা, পেয়াজ, রসুনের জমি নিয়ে গেলো চেয়ে চেয়ে দেখলাম কিছুই করার ছিলনা। আমরা কৃষি কাজেই নির্ভরশীল এভাবে নদী ভাঙন হলে কি নিয়ে চলবো খুব চিন্তিত।
মল্লিকপুর গ্রামের গৃহিণী রুশনারা জানান, আগেই নদী ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি ফসলি জমি চলে গেছে মানুষের বাড়িতে ছিলাম কষ্টে দিন পার করতে হয়েছে।
আক্তারুজ্জামান জানান, মল্লিকপুর গ্রামটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। ইতিপূর্বে ১৯৭১ সালে এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ক্যাম্প স্মৃতি ফলকসহ মসজিদ, খেলার মাঠ, ঘরবাড়ী চোখের সামনে নদী গর্ভে চলে যেতে দেখেছি। নদীর বাক ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে এনে ভাঙ্গনে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে আমরা স্বস্তি পাবো। যার ফলে পর্যটক এলাকা হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
পলাশতলী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক মোল্লা বলেন, ১ শত বছর যাবত নদী ভাঙ্গনের ফলে শাহপুর, মল্লিকপুরের হাজার হাজার একর জমি চলে গেছে। নদী ভাঙন রোধ করার জন্য প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।
পলাশতলি ইউপি চেয়ারম্যান মো জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, নদী ভাঙন রোধ করার জন্য উপজেলা সমন্বয়ক মিটিং এর রেজুলেশন মাননীয় (এমপির) ডিউ লেটার মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস ছাদেক বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এটা একটা বিরাট প্রকল্প হাতে নিতে হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে সরকারের কাছে আমার ও এমপি মহোদয়ের ডিউ লেটারগুলো পাঠানো হবে। আশা করি এ প্রকল্পের ফলপ্রসূ পদক্ষেপ আসবে। ইতোপূর্বে চরমদূয়া, মির্জারচর, চাঁনপুর ইউনিয়নের নদী ভাঙন রোধ করার জন্য প্রকল্প (একনেকে) পাশ হয়েছে। ইউএনও’র সাথে কথা বলে আপাতত কিছু বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধ করা যায় কি না সে ব্যাপারে পরামর্শ করা হবে।
মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে মল্লিকপুরসহ, বড়ইতলা, শাহপুর, মহিষবের, বল্লবপুর, গ্রামগুলো। উপজেলায় মেঘনার ব্যাপক ভাঙনে খেলার মাঠ, মসজিদ, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক, ঘরবাড়ি সহ ফসলি জমির হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে শতাধিক পরিবার।
ঘরবাড়ি ও জমিহারা অসহায় পরিবারগুলো নদী ভাঙনের হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার আশায় সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

advertisement

Posted ১২:৫০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১১ জানুয়ারি ২০২১

Amader Narsingdi |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

বিআরটিএর সামনে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

বাস চাপায় সহপাঠীর মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার, নিরাপদ সড়কসহ… [বিস্তারিত]

বাংলা একাডেমি সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আর নেই

একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নজরুল গবেষক জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল… [বিস্তারিত]

চট্টগ্রামে সমাবেশ চলাকালীন হঠাৎ মঞ্চ ভেঙে পড়ে

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার… [বিস্তারিত]

Contact Information
প্রধান উপদেষ্টা: আল মুজাহিদ হোসেন তুষার।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মাকসুদুর রহমান।
প্রকাশক ও সম্পাদক: মাহবুব সৈয়দ
সহকারী সম্পাদক: রাসেল মিয়া।
প্রধান কার্যালয়
ঘোড়াশাল পোষ্ট অফিস রোড, পলাশ, নরসিংদী।
Phone: +8801912528571
Phone: +8801711900458
Email: narsingdibd24@gmail.com